নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুন আরও অন্তত ৭ দিন স্থায়ী হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বলা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উপরের লেয়ারে গ্যাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলবে। তাই প্রাথমিক ভাবে ৭ দিন সময় লাগতে পারে বলা হলেও, সময় আরো বেশীও লাগতে পারে।
গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই গ্যাসের প্রবাহ ও চাপ কমিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে ইনানীতে মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনার পাশে গভীর নলকূপ খননের সময় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন দিন ধরে চলা খননকাজের একপর্যায়ে প্রায় এক হাজার ফুট গভীর থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, সেনাবাহিনীর ফায়ার টিম ও পুলিশ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পানি ও বালু ব্যবহারসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রায় ১২ ঘণ্টা চেষ্টা করেও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পরে আশপাশের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দুই সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহামের নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্যাসের চাপ ও নির্গমনের তীব্রতা বেশি থাকায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা বড় দুর্ঘটনা বা অন্য স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। এ কারণে এলাকাটি নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় এনে বাপেক্সকে খবর দেওয়া হয়েছে।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন পদ্ধতিতে চেষ্টা করেও আগুন নেভানো সম্ভব না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আগুন নেভানোর চেষ্টা বন্ধ করা হয়। ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল রাখা হয়েছে।
এদিকে, আগুনের কারণে বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে প্রায় আট হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।







