পিএমখালীতে বিধবা নারীকে ঘরছাড়া করতে পরিকল্পিত হামলা, এজাহার দায়ের।
(নিজস্ব প্রতিবেদক)
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় স্বামীর মৃত্যুর পর এক বিধবা নারীকে ঘরছাড়া করতে সংঘবদ্ধ হামলা, বসতঘরে ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী হাছিনা বেগম (৪৪)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে চৌধুরীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হাছিনা বেগমের স্বামী, কক্সবাজার দলিল লেখক সমিতির সদস্য ও দলিল লেখক আবুল কালাম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর আগে তিনি দানপত্রের মাধ্যমে নিজের সম্পত্তি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার একমাত্র মেয়েকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা যৌথ ব্যবহারের বাথরুমে তালা লাগিয়ে দেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। আত্মরক্ষার্থে হাছিনা বেগম ঘরে ঢুকে পড়লেও আসামিরা দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পুনরায় তাকে মারধর করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এক পর্যায়ে আনিসুর রহমান ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে কোপ দিলে তা ঠেকাতে গিয়ে হাছিনা বেগমের ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া লাঠি, লোহার রড ও কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার সময় আসামিরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করে। একই সঙ্গে আলমিরা ভেঙে মেয়ের বিয়ের জন্য সঞ্চিত তিন লাখ টাকা, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা) এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে যায়। এছাড়া তাকে ও তার মেয়েকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে না গেলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাছিনা বেগম জানান, তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনিসুর রহমান (৩৮), মিজানুর রহমান (৪৫), মিনা আক্তার (৪০) ও মোহাম্মদ আকিবুর রহমান (৩৭)-কে আসামি করে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঐ বিধবা নারী।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







