(তদন্তের দাবি স্থানীয়দের)
শ্বশুর-শাশুড়িকে মা-বাবা সাজিয়ে রোহিঙ্গা যুবকের জন্ম নিবন্ধন সনদ!
(আনোয়ার হোছন)
নিজের শ্বশুর-শাশুড়িকে পিতা-মাতা পরিচয় দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নুরুল আলম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। নুরুল আলম প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গা নাগরিক ও তার প্রকৃত নাম মোঃ রফিক। তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে তার শ্বশুর-শাশুড়িকে পিতা-মাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে ঐ এলাকায় নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নুরুল আলমের পিতা মোঃ জুয়েল একজন রোহিঙ্গা নাগরিক। সে জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন আগে বাংলাদেশে আসে এবং খুরুশকুল, পিএমখালী সহ বিভিন্ন জায়গায় দিনমজুরের কাজ শুরু করে। একপর্যায় পিএমখালী তোতকখালী এলাকা থেকে ছারা খাতুন নামের এক নারীকে বিয়ে করে ঐ এলাকায় বসবাস শুরু করে। নুরুল আলম খুরুশকুল পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার আরেক পুরাতন রোহিঙ্গা ছমি উদ্দিনের মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। পরবর্তীতে নুরুল আলম সাগর পথে অবৈধভাবে মালেয়শিয়া চলে যায়। সে মালেয়শিয়া থাকাবস্থায় শ্বশুর ছমি উদ্দিন ও শাশুড়ি মাছুদা খাতুন জামাতাকে নিজের ছেলে পরিচয় দিয়ে কৌশলে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ হতে ২০২৩ সালে জন্ম নিবন্ধন সনদ করে নেয়। উক্ত জম্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে নুরুল আলম মালেয়শিয়া হতে বাংলাদেশে ফিরে আসার আবেদন করলে স্থানীয়দের মাঝে শুরু হয় জানা-জানি।
বিষয়টি জানার পর স্থানীয়দের মাঝে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঐ জন্ম নিবন্ধনের সময় ব্যবহৃত তথ্য, পিতা-মাতার পরিচয়, ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট কাগজ-পত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। শ্বশুর-শাশুড়িকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন করার পেছনে কারা সহযোগিতা করেছে এবং কীভাবে নিবন্ধনটি সম্পন্ন হয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন স্থানীয়রা।
ঐ বিষয়ে নুরুল আলমের পরিবার সূত্র জানায়, তার প্রকৃত নাম মোঃ রফিক। সে বর্তমানে মালেয়শিয়া আছে। সে বিদেশে থাকা অবস্থায় তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন তার নাম নুরুল আলম উল্লেখ করে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিভাবে জন্ম সনদ করেছে সে বিষয়ে তারা কিছু জানে না। মূলত শ্বশুর বাড়ীর লোকজন জামাতাকে দেশে ফেরত আনতে মোঃ রফিক কে নুরুল আলম বলে উল্লেখ করে শ্বশুর-শাশুড়ি কে মা-বাবা সাজিয়ে ঐ জন্ম সনদ তৈরী করেছে।
জামাতাকে ছেলে পরিচয় দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ করে দেয়ার বিষয়ে শ্বশুর ছমি উদ্দিন বলেন-আমি ঐ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না, আমার স্ত্রী মছুদা খাতুন এগুলো করেছে। সে কিভাবে করেছে এবং কার মাধ্যমে করেছে সেটাও আমি জানি না। জামাতা নুরুল আলম সাগর পথে মালেয়শিয়া গেছে এবং বর্তমানে মালেয়শিয়া আছে। একপর্যায় ঐ কাজটি অন্যায় হয়েছে বলে স্বীকার করে শ্বশুর ছমি উদ্দিন।
ভুয়া পরিচয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদের বিষয়ে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন- “ঘটনাটি আগের চেয়ারম্যানের সময়ে ২০২৩ সালে ঘটেছে। ঐ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে পারবো না। তবে আমি আপনার মাধ্যমে বিস্তারিত জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
এ বিষয়ে জানার জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।








