ঢাকাWednesday , 10 September 2025
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুরুশকুলের শ্রমবাজারে রোহিঙ্গাদের থাবা, নেপথ্যে HYSAWA এনজিও।

প্রতিবেদক
আনোয়ার হোছন

September 10, 2025 10:07 pm
Link Copied!

খুরুশকুলের শ্রমবাজারে রোহিঙ্গাদের থাবা, নেপথ্যে HYSAWA এনজিও।

(আনোয়ার হোছন)

রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে HYSAWA নামীয় একটি এনজিও’র বিরুদ্ধে। তবে এসব রোহিঙ্গা শ্রমিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আলম এন্টারপ্রাইজ’ নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে ঐ এনজিও’র কর্তৃপক্ষ।কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের শ্রমবাজার দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষরা অভিযোগ করছেন রোহিঙ্গা শ্রমিকরা কম মজুরিতে কাজ করায় তাদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, HHYSAWA নামীয় এনজিও টি দীর্ঘদিন ধরে খুরুশকুল সহ কক্সবাজার সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে সামাজিক ও উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি খুরুশকুল ইউনিয়নে ৫০টি সহ সদরের ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী ও ঝিলংজা ইউনিয়নে মোট ১২৫টি টয়লেট নির্মানের উদ্যোগ নেয় ঐ এনজিও। এসব টয়লেট নির্মানের দায়িত্ব পায় টিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আলম এন্টারপ্রাইজ’। সরেজমিনে দেখা যায় খুরুশকুলের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০টি টয়লেটের নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে। এসব টয়লেটের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত অধিকাংশ শ্রমিকের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। শ্রমিকরা জানায়, তাদের সবার বাড়াী কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তারা রামু এলাকার হামিদ মিস্ত্রির মাধ্যমে এখানে কাজে এসেছে। তারা এসব টয়লেটের কাজ শেষ করে আবারো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে যাবে। রোহিঙ্গা শ্রমিকের বিষয়ে জানার জন্য হামিদ মিস্ত্রির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মিস্ত্রি হিসাবে কাজ করছি মাত্র। রোহিঙ্গা শ্রমিকের বিষয়ে সাদেক মিস্ত্রির সাথে কথা বলেন।

স্থানীয়দের দাবি, রোহিঙ্গারা প্রতিদিন বিভিন্ন নির্মাণ কাজ, ধান রুপন, ধান কাটা, মাছের ঘের ও বাজার এলাকায় কম দামে শ্রম দিচ্ছে। এতে একদিকে স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে শ্রমের ন্যায্যমূল্য ভেঙে পড়ছে। এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এ বিষয়ে খুরুশকুলের ছৈয়দ মিস্ত্রি নামের একজন শ্রমিক বলেন- আমরা মিস্ত্রিরা দিনে ৯০০–১০০০ টাকা চাই, কিন্তু রোহিঙ্গারা ৬০০–৭০০ টাকায় কাজ করে। ফলে বিভিন্ন এনজিও এবং মালিকরা আমাদেরকে বাদ দিয়ে ওদের নিয়োগ দিচ্ছে। এতে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পানিসম্পদ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কিছু এনজিওর আড়ালে রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিশেষ করে HYSAWA (Hygiene, Sanitation and Water Supply) নামের একটি এনজিওর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা জানায়, আলম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান HYSAWA’র তত্ত্বাবধানে টয়লেট নির্মাণ কাজে রোহিঙ্গা শ্রমিক ব্যবহার করছে। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু শ্রমবাজারকেই নয়, আইন-শৃঙ্খলাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে জানার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আলম এন্টারপ্রাইজের সাথে যোগাযোগ করা হলে ঐ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আক্তার কামাল নামের একজন প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে বলেন-আলম এন্টারপ্রাইজ একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। এখানে শত শত মানুষ চাকুরি করে। আপনি এগুলো বাদ দেন এবং আমাদের সাথে ব্যবসা করুন। তিনি রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন-স্থানীয়রা টাকা বেশি নেয়, তাই আমরা রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ করি। একপর্যায়ে তিনি নিউজ না করার শর্তে প্রতিবেদকে কে খুশি করবে বলে জানানা।

এবিষয়ে HYSAWA এনজিওর স্থানীয় প্রতিনিধি মো: হামিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-“আমরা কেবল পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পে কাজ করি, শ্রমবাজারের সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রোহিঙ্গাদের সরাসরি কর্মসংস্থানের বিষয়টি আমাদের কার্যক্রমের অংশ নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আলম এন্টারপ্রাইজ যদি রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে থাকে তাহলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব”।

সম্পর্কিত পোস্ট
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com