খুরুশকুল ইউনিয়ন – সদর উপজেলা কক্সবাজার।
বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় চঞ্চলা পালের ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি।
(আনোয়ার হোছন)
দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম মানুষের জন্য সরকারী বয়স্ক ও বিধবা ভাতার বর্ধিত চুড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অফিসের মাঠ কর্মী চঞ্চলা পালের বিরুদ্ধে। তাকে টাকা না দিলে তালিকায় নাম থাকে না বলে জানায় স্থানীয়রা। নতুন তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের থেকে জনপ্রতি ১-২ হাজার টাকা করে অনুমান ৫-৬ লক্ষ টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে গ্রহন করেছে বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার জন্য শত শত বয়োজ্যেষ্ঠ ও স্বল্প আয়ের মানুষ অনলাইনে আবেদন করেন। অনলাইনে আবেদন শেষে ফাইলগুলো পরিষদের মাধ্যমে যাচাই-বাচাই শেষে চলে যায় মাঠ কর্মি চঞ্চলা পালের হাতে। তিনি এসব ফাইলের তালিকা নিয়ে শুরু করে ব্যাপক দূর্নীতি। নতুন তালিকায় নাম রাখতে এসব গরীব অসহায় মানুষের কাজ থেকে হাতিয়ে নেয় জন প্রতি ১-২ হাজার টাকা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় মেম্বারদের মাধ্যমেও এসব টাকা নেয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নতুন তালিকায় নাম রাখতে স্থানীয় মেম্বারদের মাধ্যমেও টাকা নিয়েছে বলে জানায় কয়েকজন মেম্বার। বয়স্ক ও বিধবা ভাতার তালিকায় সুবিধাভোগীর মোবাইল নাম্বার না দিয়ে মাঠ কর্মির মোবাইল নাম্বার দেয়ার সত্যতাও পান প্রতিবেদক। অনিয়মের মাধ্যমে টাকা আত্নসাতের উদ্দেশ্যে মাঠ কর্মি এমন অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন সমাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মেম্বার বলেন-আমরা অসহায় হয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে টাকা নিয়ে তাকে দিছি। তাকে টাকা না দিলে তালিকা থেকে নাম কেটে দেয়। গরীব মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা এসব টাকা দিয়েছি।
এবিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত চঞ্চলা পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন-আমি কারো কাজ থেকে জোর করে টাকা নিই নাই। যদি কেউ খুশি করে ১-২ হাজার টাকা দেয় সেগুলো নিছি। যদি কেউ টাকা ফেরত চাই তাহলে আমি দিয়ে দেব। তিনি আরো বলেন-আমাদের অফিসে খরচ আছে, তাই মানুষ থেকে কিছু কিছু টাকা নিতে হয়। অফিসে খরচ ছাড়া বই দেয় না।
এসব অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো:নাছির উদ্দীন বলেন-আমি মাত্র দায়িত্ব পেয়েছি। তার অনিয়ম-দূর্নীতির কথা শুনতে শুনতে আমি একপ্রকার বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। আমি দ্রুত চঞ্চলার এসব অনিয়ম -দূর্নীতির বিষয়ে সমাজ সেবা অফিসের সিনিয়র অফিসারদের সাথে আলোচনা করে একটা ব্যবস্থা গ্রহন করব, ইনশাআল্লাহ।
এবিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার দায়িত্বর সমাজসেবা অফিসার কৌশিক বলেন- আমি বিষয়টি জানি না, আপনার কাছে শুনলাম। যদি কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন তাহলে তাদেরকে আমার অফিসে পাঠিয়ে দেন। তিনি আরো বলেন-আমার অফিসে টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই, বই নিতে কোন টাকা লাগে না। যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।








