(অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর)
নয়ন সাধু হত্যা মামলায় আব্দুর রহিম প্রকাশ একপিচ্ছা আটক।
# পাহাড়ি জমি বিক্রির টাকা ভাগ-ভাটোয়ারার দ্বন্দ্বের কারণে খুন হয় নয়ন সাধু।
# লাশ গোপন করতে গভীর পাহাড়ের ভিতরে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয় মৃতদেহ।
(আনোয়ার হোছন)
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল পুলিশ্যার ঘোনায় সেবায়েত নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর আব্দুর রহিম প্রকাশ একপিচ্ছাকে আটক করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।

গত ৮ই আগষ্ট দিবাগত রাতে তাকে হামজার ডেইল এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পাহাড়ি জমির মালিকানা, জমি বিক্রির অর্থ নিয়ে বিরোধের দ্বন্দ্বসহ একাধিক বিষয় সামনে আসার পর পুলিশের এ আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে দৈনিক কক্সবাজার সংবাদে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, পূর্ব হামজার ডেইল পুলিশ্যার ঘোনায় শ্রী শ্রী শিব কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার পর মন্দিরের আশপাশের পাহাড়ি জমির দখল ও জমি বিক্রির টাকার ভাগ নিয়ে চাচা আবুল হোছন ও ভাতিজাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। জমি বিক্রি, দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজাদের সঙ্গে বিরোধের তথ্যও পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি মন্দিরের দুই সেবায়েত নয়ন সাধু ও সঞ্জয় সাধুর মধ্যকার দ্বন্দ্বকেও কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব বিরোধের সুযোগ নিয়ে নয়ন সাধুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত ২১ এপ্রিল নিখোঁজের তিন দিন পর পুলিশ্যার ঘোনার গহীন পাহাড়ের ভিতর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়ন সাধুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এদিকে অনুসন্ধানের সময় স্থানীয় এক যুবকের দেওয়া তথ্যেও চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে আসে। ওই যুবকের দাবি, রাতে পাহাড়ি সড়কে মুখোশ পরিহিত চারজন অস্ত্রধারী ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়। তাদের দেখতে পাওয়ার পর তাকে মারধর করা হয় এবং ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। ওই যুবকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সে আব্দুর রহিম প্রকাশ একপিচ্ছার ভাই মোঃ হেলালকে চিনতে পেরেছিল বলে দাবি করে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক আব্দুর রহিম প্রকাশ একপিচ্ছার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আব্দুর রহিম প্রকাশ একপিচ্ছাকে আটকের মধ্য দিয়ে নয়ন সাধু হত্যা তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, কারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং হত্যার প্রকৃত কারণই বা কী এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা। নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর মডেল থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর সাগর দে বলেন- “মামলটি রুজুর পর থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। তদন্তকালে বিভিন্নভাবে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা করি। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দিগ্ধ আসামী আব্দুর রহিম প্রকাশ একপিচ্ছার গতিবিধি পর্যালোচনা করি। সর্বশেষ গতরাতে খুরুশকুল হামজার ডেইল এলাকায় অভিযান করে তাকে আটক করি। তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে এবং ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।






