হ*ত্যা মামলার সংবাদ প্রকাশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয়ে সাংবাদিককে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার :
কক্সবাজারের খুরুশকুলের আলোচিত সন্ন্যাসী নয়ন সাধু হত্যা মামলার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও আসামি গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক অন্তর দে বিশালকে প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ ও ফটোকার্ড সরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন তিনি।
সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল দৈনিক সংবাদ সারাবেলার কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার এবং স্থানীয় মাল্টিমিডিয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল কক্সবাজার জাগো নিউজ-সিজেএনের বার্তা সম্পাদক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে 01347-148708 নম্বর থেকে সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে এসপি কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সিজেএনে প্রকাশিত নয়ন সাধু হত্যা মামলার সংবাদ সরিয়ে নিতে বলেন বলে অভিযোগ করেন অন্তর।
একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং সংবাদ সরিয়ে না নিলে হত্যা মামলায় আসামি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল জানান, নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সিজেএন টিম ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিল। এর প্রায় তিন মাস পর হত্যা মামলার আসামি আবদুর রহিম ওরফে ‘একপিচ্চা’কে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিয়ে সিজেএনে লাইভ ও সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরে ওই সংবাদকে কেন্দ্র করে একটি ফটোকার্ড অনলাইন পেজে প্রকাশ করা হলে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ফোন করে সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
অন্তর দে বিশাল বলেন, “ফোনদাতার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পরিচয় না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নিউজ ডিলেট না করলে বা এ বিষয়ে আর কথা বললে হত্যা মামলায় আসামি করার হুমকি দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে এমন হুমকি দেওয়া রহস্যজনক। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি। সংবাদ প্রকাশের কারণে এভাবে হুমকি দিয়ে সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।”
জিডি গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ
হুমকির ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও প্রথমে তিন দফায় জিডি গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন অন্তর দে বিশাল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো এবং সহকর্মীদের সহযোগিতার পর রাতে জিডি গ্রহণ করা হয় বলে জানান তিনি।
জিডি গ্রহণ না করার বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে তাকে জিডি করার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয় বলে দাবি করেন অন্তর। হুমকিদাতার নম্বর দিলে বিষয়টি জানানো হবে বলেও তাকে জানানো হয়।
এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর +9607388408 নম্বর থেকে আবারও একজন নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন অন্তর। ওই কলের অডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে সংবাদকর্মীকে হুমকি এবং প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগে কক্সবাজারের সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে হুমকির অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।







