ঢাকাবুধবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কক্সবাজারের আইকনিক রেল স্টেশন কেন্দ্রিক সক্রিয় দীর্ঘদিনের টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেক্স

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫ ১০:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেক্স:
কক্সবাজারের আইকনিক রেল স্টেশন কেন্দ্রিক সক্রিয় দীর্ঘদিনের টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট।

কক্সবাজারের আইকনিক রেল স্টেশন কেন্দ্রিক সক্রিয় দীর্ঘদিনের টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের অসাধু কর্মকাণ্ড অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। গেল সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে স্টেশনের টিকিট বুকিং সহকারী ইব্রাত হোসেনকে বদলি করে ফেনীর হাসানপুর রেল স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। তবে স্টেশনে কর্মরত অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টিকিট কেলেঙ্কারির ঘটনা উদঘাটনের পরপরই বুকিং সহকারী ইব্রাত হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার পর থেকেই টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনে ভ্রমণকারী যাত্রীরা প্রায়ই টিকিট না পেয়ে হয়রানির মুখে পড়ছেন। যদিও গত দুই বছরে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এর ফলে টিকিট কাউন্টারের কিছু কর্মচারী বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিকিট বুকিং কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেজামুদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন বুকিং সহকারী যোগসাজশে কাজ করছে। তারা সরাসরি স্থানীয় টিকিট কালোবাজারিদের হাতে কাউন্টার থেকে টিকিট সরবরাহ করেন। যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ফিরে গেলে, সেই টিকিট দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি করা হয়। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের সঙ্গে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের অডিট বিভাগের তারিফ নামের এক অডিটরও জড়িত। তিনি প্রায় প্রতিমাসে কক্সবাজারে এসে স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করেন, আর ওই হোটেলের খরচ বহন করা হয় সিন্ডিকেটের তহবিল থেকে।

টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি বর্তমানে র‌্যাব তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুধু বুকিং সহকারীই নয়, স্টেশনভিত্তিক আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বাইরের প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। র‌্যাব বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে—একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়মিত টিকিট সরবরাহ ও অর্থ লেনদেন চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, রেলস্টেশনে একাধিক অসংগতি ধরা পড়েছে— তারমধ্যে ভুয়া সফটওয়্যার ব্যবহার, টিকিট ইস্যুর সময় ‘ব্লক’ দেখিয়ে পরে সেই টিকিট কালোবাজারিদের কাছে সরবরাহ এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ।একেবারে বুকিং সহকারী থেকে শুরু করে অডিট কর্মকর্তা পর্যন্ত যোগসাজশে হচ্ছে টিকিট কালোবাজারি।

স্থানীয় যাত্রী অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ তাঁর কাছে জমা পড়লেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর উচিত ছিল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত চালানো বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা। বরং দীর্ঘ সময় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই শুধু বুকিং সহকারী বদলি করাই যথেষ্ট নয়; প্রশাসনিক জবাবদিহির আওতায় স্টেশন মাস্টারকেও আনা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।

রেলওয়ের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকার কয়েকটি স্টেশনে একই ধরনের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। কিন্তু আদালতে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলোর কার্যকর সমাধান হয়নি। অনেকে পরে ভিন্ন স্টেশনে বদলি হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। কক্সবাজারের ঘটনাটিও সেই পুরনো ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথে দৈনিক ২টি এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে আরও ২টি ট্রেনে মিলিয়ে প্রতিদিন ৮ হাজারেরও বেশি যাত্রী চলাচল করেন। এর মধ্যে অধিকাংশই পর্যটক হওয়ায় টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কার্যকলাপ যাত্রীসেবাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পর্যটন শিল্পনির্ভর এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
সংগ্রহ : কক্সবাজার কন্ঠ

সম্পর্কিত পোস্ট
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com