কক্সবাজার পৌরসভায় নির্বাচনী আমেজ

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার: কক্সবাজার পৌরসভায় চলছে নির্বাচনী আমেজ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে সমানতালে। ভোটের অংকে কক্সবাজার পৌরসভা বরাবরই আওয়ামী লীগের জন্য ঊর্বর হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী হেভিওয়েট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সিলেকশনে দলের হাই কমান্ড রয়েছে বিপাকে।
জানাগেছে, নির্বাচন কমিশন ৯ জুন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৪ জুন, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৬ জুন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩ জুলাই ও ভোটগ্রহণ ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে প্রায় ৮৪ হাজার। ১২টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৯টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও জানাগেছে, ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একই দলের রাশেদুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ায় জামাত সমর্থিত প্রার্থী সরওয়ার কামাল বিজয়ী হন। এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি-জামায়াত ঘরণার প্রার্থীদের তালিকা সংক্ষিপ্ত হলেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা দীর্ঘ।
আসন্ন পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এবার যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে, তারা হলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক ৪ বারের পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল।
আর অতীতে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলেও এবার সেরকম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় পড়তে পারে বিএনপি। এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো প্রার্থীকে মাঠে দেখা যায়নি। তবুও বিএনপি থেকে যেসব প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, আরেক প্যানেল মেয়র ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিন। তবে জামায়াত থেকে একজন প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই ফাক্টর হবেন সব দলের প্রার্থীদের কাছে। তিনি হলেন পৌরসভার গেল নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র (বর্তমানে বহিষ্কৃত) সরওয়ার কামাল। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করতে পারেন জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার।
এদিকে আওয়ামী লীগের টিকেটে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের তালিকা লম্বা হলেও মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক মুজিবুর রহমান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু। তারা ইতোমধ্যে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে কৌশলে গণসংযোগ করেছেন। কৌশল বিনিময় করছেন সাধারণ মানুষের সাথে।
নির্বাচন নিয়ে মুজিবুর রহমান জানান, গতবার মনোনয়ন পাওয়ার পর পৌরবাসী তাকে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। তার পক্ষে চারদিকে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দল বিরোধী কতিপয় ব্যক্তি একাট্টা হয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে তাকে হারিয়ে দেয়। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে পৌর এলাকায় অভ’তপ’র্ব উন্নয়ন হয়েছে। মানুষ এসব উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। এছাড়া অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও তিনি মুখ খুলছেন না। কৌশলে পথ চলছেন। বক্তব্যও দিয়েছেন কৌশলী। তিনি বলেছেন আমার জনসমর্থন আছে, জনসমর্থন বিবেচনায় দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো।
কক্সবাজার পৌর এলাকায় সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বরাবরই জনপ্রিয়। জনগণের ভোটে তিনি পরপর চার বার পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও এখনো তিনি ফ্যক্টর। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি সহজে জয়ী হয়ে আসবেন এমন ধারণা তার।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পৌরসভায় দু’বার ভোট করেছেন রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, শত ষড়যন্ত্র ও বাধা বিপত্তির পরও পৌরবাসী তার সাথে ছিলেন। এবারও ভোট করার জন্য পৌরবাসীর চাপ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর নেতা কায়সারুল হক জুয়েল। তার মরহুম পিতা একেএম মোজাম্মেল হক কক্সবাজার পৌরসভার একাধিকবার চেয়ারম্যান ছিলেন।

মতামত দিন