অবাধ বিচরণে মিশে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার : প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিচরণ। তারা কৌশলে মিশে যাচ্ছে স্থানীয় মাঝে। বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার এমন কোন এলাকা নেই যেখানে রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন হয়নি।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, টেকনাফ পৌরসভার বেশীর ভাগ ভাড়াবাসা গুলোতে এখন রোহিঙ্গাদের বসবাস যেনো চোখে পড়ার মত। চেহারা এক রকম হওয়ায় কারা রোহিঙ্গা, কারা স্থানীয় চিহ্নিত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ থামাতে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বেশ কয়েকটি আইনশৃংখলা বাহিনীর চেকপোস্ট রয়েছে। তারপরও রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের সাথে মিশে গিয়ে দালালদের সহযোগিতা নিয়ে কৌশলে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সরকার মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় দেয়। অথচ তারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে। বর্তমানে রোহিঙ্গারা সাধারণ মানুষের কাছে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় জনসংখ্যার চেয়ে তিনগুণ রোহিঙ্গা বসবাস করছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে। আর স্থানীয় শ্রমবাজার এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। ফলে বেকায়দায় পড়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি তাদের অবাধ বিচরণ থামাতে না পারে তাহলে শ্রমজীবি মানুষের সামনে আরও বড় ধরনের হুমকি অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
টেকনাফ শহর ঘুরে দেখাগেছে, রিক্সা, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত টমটম, মাহেন্দ্র গাড়ির চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় রোহিঙ্গাদের বিচরণ চোঁখে পড়ার মত। এমনকি টেকনাফের স্থলবন্দরের অভ্যন্তরেও রোহিঙ্গারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। রোহিঙ্গা শ্রমিকরা যদি একদিন না আসে মালামাল লোড আনলোড করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে ব্যবসায়ীরা। কারন টেকনাফ বন্দর সংশ্লিষ্টরা স্বল্প মজুরির বিনিময়ে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ করে আসছে। সকাল-বিকাল তারা দল বেঁধে আসে যাওয়া করে।
রোহিঙ্গারা বলছে, অনেক কষ্ট করে স্থানীয় প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে লোকালয়ে আসি। আবার অনেক সময় আর্মির চেকপোস্ট থেকে তাদেরকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। আবার অনেক সময় পায়ে হেটে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এদিকে রোহিঙ্গাদের বিচরণের ফলে প্রতিনিয়ত যানবাহন সংকটে ভুগছে স্থানীয়রা।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া এব্যাপারে বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে মানবিক কারনে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। তাদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। আর যে সমস্ত রোহিঙ্গারা নিজের ইচ্ছামত ক্যাম্পে না থেকে স্থানীয়দের ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। সেই সমস্ত রোহিঙ্গা ও অর্থলোভী ভাড়াবাসার মালিকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সঠিক তথ্য প্রমান হাতে নিয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। টেকনাফ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মনির জানিয়েছে, বিষয়টি আসলে বক্তব্য দেয়ার অপেক্ষা রাখে না। তারপরও এব্যাপারে পৌর প্রশাসনের পক্ষে যা করা প্রয়োজন তা অবশ্যই করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*