টাকা জোগাড় করতে সন্তান বিক্রির ঘটনা নিয়ে তোলপাড়!

জসিম সিদ্দিকী: কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকের টাকা যোগাড় করতে না পেরে অবশেষে নিজের সন্তান বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের আন্তরিকতায় শিশুটি মহেশখালী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ইয়াবাখোর পিতা কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে।
জানাগেছে, নিজের স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বই পালন করতো না চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী ফুলতলা গ্রামের মাদকাসক্ত রেজাউল করিম। উল্টো মাদকের টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই নির্যাতন করতেন স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে। অথচ নিজের ও সন্তানের আহার জোটাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন রাবেয়া। আর মাদকের টাকা জোগাড় করতে রেজাউল শেষ পর্যন্ত নিজের দেড় বছরের কন্যা সন্তান জান্নাতুল মেহেরাজকেই বিক্রি করে দেন স্ত্রীর অগোচরে। কোলের সন্তানকে পাগলের মতো খুঁজতে থাকে রাবেয়া। এক সপ্তাহ পর লোকমুখে জানতে পেরে রাবেয়া বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ প্রথমে রেজাউলকে ইয়াবাসহ আটক করে। গত শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার একটি গ্রাম থেকে শিশু মেহেরাজকে উদ্ধার করে পুলিশ।
রাবেয়া বলেন, বাপের বাড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়ায়। আট দিন আগে আমি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে গেলে অজান্তে কোলের শিশু জান্নাতুল মেহেরাজকে চুরি করে নিয়ে যায় মাদকাসক্ত স্বামী রেজাউল। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে হঠাৎ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পাই শিশুটিকে মহেশখালীর শাপলাপুরের বারিয়াপাড়ায় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। রেজাউল ওই ব্যক্তিকে জানিয়েছিল, সে চলার পথে শিশুটিকে কুড়িয়ে পায়। তার কথা বিশ্বাস করে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে হেফাজতে নেন, বিনিময়ে রেজাউলকে হাজার খানেক টাকা দেন। ওই টাকা দিয়ে ইয়াবা কিনে সেবন করছে রেজাউল। তখন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশের কাছে গিয়ে বিস্তারিত জানায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রেজাউলকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। আট দিন পর শুক্রবার সকালে পুলিশের সহায়তায় কোলের শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।
চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশিরুল আইয়ুব কালের বলেন, ‘নিজের সন্তানকে কোনো বাবার এভাবে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধার এবং মাদকাসক্ত রেজাউলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে সহায়তা দিই। এ সময় বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেটও রেজাউলের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ নিয়ে চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাদকাসক্ত রেজাউলের নিজের সন্তান চুরি করে বিক্রির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*