শীত মৌসুমে ধরা পড়ছে ইলিশ মজুদ করছে ৫ প্রতিষ্ঠান

তারেকুল ইসলাম: মৌসুমের শুরুতে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে অপ্রত্যাশিতভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। প্রজননকালে মা ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় পূর্ণ ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে গত একমাস ধরে ইলিশ বেচাকেনায় শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারি ঘাটটি এখন জমজমাট। ফলে এ ঘাট থেকেই দৈনিক গড়ে ৫০ টন ইলিশ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। শীত মৌসুমের শেষে ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা গত এক যুগে এই প্রথম বলে জানান মৎস্য সংশ্লিষ্টরা। এতে করে দেশের ব্লো ইকোনমি জোরদার হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আহরিত ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে গিয়ে চরমভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত সড়কে নানা অজুহাতে ঘাটে ঘাটে তাদের গতি থামিয়ে চাঁদা আদায় করে পুলিশ। জানা যায়, গত ১৬ মার্চ সারি সারি ট্রলার সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই করে ঘাটে ফিরতে দেখা গেছে। এর আগে ফেরা কিছু ট্রলার নতুন করে রসদ নিয়ে পুনরায় রওনা দিয়েছে বঙ্গোপসাগরে। জেলে-শ্রমিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় ফিশারি ঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেটি এক কথায় জমে উঠেছে। ঘাটের শ্রমিকরা নৌকা থেকে ইলিশ তুলে ডাঙায় নিচ্ছে আর বোটমালিক বা ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা তা পাইকারি দরে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজার থেকে ইলিশ কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। প্রচুর মাছ ধরা পড়ায় সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও সাগরের তাজা ইলিশ সহজেই পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া শহরের প্রধান বাজারগুলোদতে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৩শ টাকা। চারশ গ্রামের চেয়ে বড় ইলিশের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আকার ভেদে ইলিশের দাম আরও বেশি। কক্সবাজার বৌদ্ধমন্দির সড়কের বাসিন্দা আফরোজা জামান বলেন, গত বছর থেকে মনভরে ইলিশের স্বাদ নিতে পারছি। তবে আগের বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশের স্বাদ বেশি। সরকারের মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, দেশের মুক্ত জলাশয় বা বঙ্গোপসাগরে ইলিশ উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গতবছর ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা শুধু ছাড়িয়েই যায়নি, ১৮ বছরের রেকর্ডও ভেঙেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর এ খাতে প্রায় ১৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর ব্লো ইকোনমি জোরদারের লক্ষ্যে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ উৎপাদনও বাড়ছে । সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই দেশে ইলিশের উৎপাদন ৩ থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টনের মধ্যে উঠানামা করছে। এ বছর দেশে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি ছাড়িয়ে যাবে। চলতি মৌসুমের আগে গত বছরও দেশে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়েছিল বলে জানান কর্মকর্তারা। এর আগে ১৯৯৮ সালে এই ধরনের ইলিশ ধরা পড়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্বে প্রতিবছর ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হয়। এর ৭০ শতাংশই বাংলাদেশে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরে ইলিশের বাণিজ্য ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কক্সবাজার ফিশারি ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম চিশতির অভিযোগ, কক্সবাজার থেকে দেড়-দুই টনের ইলিশ বোঝাই একটি পিকআপকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পুলিশকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে গাড়িতে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে চালান দেয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া বিভিন্ন চেকপোস্টে অহেতুক ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে বাজারে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পেরে ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হন। অপরদিকে, কক্সবাজারের কিছু বড় ব্যবসায়ী পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে এখন থেকেই কম দামে ইলিশ কিনে জমাতে শুরু করেছে। মাছ জমাচ্ছে পর্যটন শহরের তারকা হোটেলগুলোও।

মতামত দিন