বন্দুকযুদ্ধে নিহত মালেক এর পরিবারের আহাজারি

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিছড়া বাজার এলাকার মৃত বশির আহমদের ছেলে আব্দুল মালেককে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে চলছে চরম ক্ষোভ। নিহতের পরিবারের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও ছেলে- মেয়েদের কান্নায় আকাশ- বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
১৪ আগস্ট নিহতের পরিবারের সদস্যরা ও এলাকার লোকজন বলেছেন, প্রকাশ্যে ১৩ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৯ টাকায় শত শত জনতার সামনে পুলিশ মালেকে ঘর থেকে গ্রেপ্তার করে উত্তর দিকে নিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারের ৩ ঘন্টা পর শাপলাপুরের জঙ্গল থেকে তার লাশ পাওয়া যায়।
উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিছড়া বাজারের একেবারে লাগোয়া আব্দুল মালেকের বাড়ী। আব্দুল মালেকের বৃদ্ধা মা বদুন বিবি, তার ২ স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও পারভিন আক্তারসহ আত্মীয়-স্বজনরা সংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল মালেকের সাথে বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরা ঘোনা গ্রামের আবুল কালাম কোম্পানী, মান্না মেম্বার ও জাফরের মধ্যে কোয়ারখালী ঘোনায় কিছু জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। এ বিরোধের জের ধরে বার বার তারা আব্দুল মালেক কে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো।
১৩ আগষ্ট সকাল ৯টায় মহেশখালী থানায় এসআই দীপক ও এএসআই সনজীবের নের্তৃত্বে একদল পুলিশ দু’টি সিএনজি যোগে এসে মালেককে ঘর থেকে গেঞ্জি পড়া অবস্থায় গ্রেপ্তার করে শত শত লোকজনের সামনে গাড়ীতে তোলে উত্তর দিকে নিয়ে যায়। ৩ ঘন্টার পর খবর আসে পুলিশ মালেকের লাশ শাপলাপুর ইউনিয়নের দিনেশপুর জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করে নিহতের কন্যা পানির ছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী খতিজা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে এ হত্যার আসল তথ্য উদঘাটনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
তবে এ ঘটনা নিয়ে মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর বন্দুক যুদ্ধে মালেক নিহত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে।

মতামত দিন