প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ফসলি জমি দখল,বাধা দেয়ায় হামলা ;আহত ২০

মোঃ রুস্তম রানা:: কক্সবাজার সদর উপজেলার আওতাধীন ভারুয়াখালী ইউনিয়নের উল্টাখালী এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জমি দখল করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।এতে জমির মালিকেরা বাধা প্রদান করলে তাদেরকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা।এই ঘটনায় নারী-পুরুষ মিলে মোট জন ২০জন আহত হয়।যাদের মধ্যে স্থানীয় নিবাসী লাল মিয়ার ছেলে নুরুল হুদা, জমির মালিক দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে জানে আলম,মনি আলম, মনি আলমের স্ত্রী লিমা আকতার এবং আবুল হোসেনের ছেলে দিদার মিয়া গুরুতর আহত হয়।তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়,  ৩৫বছর আগে আবুল হোসেন,দোলোয়ার হোসেন সহ তার ভাইয়েরা জমিটি ক্রয় করে এবং তারা সেই জমিতে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে হালচাষের কাজ করে আসছে।

গত এক বছর ধরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী জমিটির মালিকানা দাবী করে আসছে।তাদের মধ্যে স্থানীয় আব্দুল করিমের ৪ছেলে আব্বাস,মোস্তাক,মজিফ,ইলিয়াস বাচা মিয়ার ছেলে আবুল কালাম,আব্বাস মিয়ার ছেলে আব্দুল হামিদ, নজু মিয়ার ছেলে ফরিদ এবং সদ্য কারাগার থেকে বের হওয়া বিভিন্ন মামলার আসামি ডাকাত নুরুল হুদা অন্যতম।

তাদের নেতৃত্বে ঐ জমিটি দখল করার জন্য ০৯ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০ টার বিভিন্ন এলাকা হতে ৫০ এর অধিক সন্ত্রাসীদের জড়ো করে।প্রথমেই গুলি ফায়ার পরবর্তীতে রাম দা সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমি দখলে নেমে পড়ে।

এদিকে খবর পেয়ে জমির মালিক দেলোয়ার হোসেন সহ তার আত্মীয়-স্বজনরা বাধা দিতে আসলে দুর্বৃত্তরা তাদের উপর এলোপাতাড়ি হামলা করে।এই হামলায় ২০জনের অধিক আহত হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা ছুটে আসলে এবং তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে,পুলিশ এর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

 

অভিযান পরিচালনা কারি ঈদগাহ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই বিলাস সরকারের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, “কিছুদিন ধরে জায়গাটার মালিকানা দাবী নিয়ে সমস্যা চলছে।যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।মামলার রায় না আসা পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা না ঘটে সেজন্য উভয় পক্ষকে বিশেষ ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এমনকি আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১২মার্চ এই নিয়ে ঈদগাহ তদন্ত কেন্দ্রে একটি সালিশের দিন ধার্য করা হয়।কিন্তু তারা তা না মেনে জায়গা দখলের চেষ্টায় লিপ্ত হয়”।

এসময় সন্ত্রাসীদের জমি দখলের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর হেফাজতে নেয় পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*