পুলিশ কর্মকর্তা থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী!

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মাদকবিরোধী অভিযানে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবের মাদক বিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ টাকাসহ সুমন (২৫) নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। তাকে গ্রেপ্তারের পরই জানা যায় সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই।

তবে অভিযান চলাকালে সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার জাসিম র‌্যাবের উপস্তিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাব-১১ সিনিয়র এএসপি জসিমউদ্দিন (পিপিএম) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিদ্ধিরগঞ্জে সালাউদ্দিন নামে পাইকারি এক ইয়াবা বিক্রেতার নাম উঠে আসে। সালাউদ্দিন নিজের ব্যাক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দিতেন। পরবর্তীতে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রাখে।

গোপন সংবাদ পেয়ে সোমবার রাত ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী ফ্রেন্ডস টাওয়ারে সালাউদ্দিনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও আটক হয় সহকারী সুমন। পরে সুমনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির মালিককে সঙ্গে নিয়ে সালাউদ্দিনের ঘর তল্লাশী করে ৫ হাজার ২০০  ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ৮ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। অপর দিকে নারায়ণগজ্ঞ সদর থানা এলাকায় সালাউদ্দিনের আরেকটি বাসায় ও র‌্যাব তল্লাশী চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।পরে র‌্যাব সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানাতে পারে ইয়াবা ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি কর্মরত ছিলো। মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে প্রায় সাত মাস আগে তাকে চাকরিচুত্য করা হয়। তখন থেকেই সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছেন। পলাতক অবস্থায় তিনি নিজেকে ডিবি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করতেন। সালাউদ্দিনের মাদক পরিবহনের জন্য তিনটি প্রাইভেট কার রয়েছে। যে গুলোর মাধ্যমে সে নিজেই ইয়াবা বহন করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন। এই কাজের জন্য জাসিম, ওসমান ও বাহাদুর নামে তার তিনজন ব্যাক্তিগত গাড়িচালকও রয়েছে। মাদক ব্যবসার হিসাব রাখার জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত সহকারী। র‌্যাব আরও জানায়, সালাউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে চালক জাসিম, ওসমান ও বাহাদুরের মাধ্যমে প্রাইভেটকারে করে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত ইয়াবা পৌঁছে দিতেন। পরে তারা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সুমন, সালাউদ্দিনের নির্দেশে ব্যাংকে, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে দিতেন। বরখাস্ত এএসআই সালাউদ্দিনের পুলিশের ডিউটির ধরন, মাদকবিরোধী অভিযানের পদ্ধতিসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কর্মকৌশল সম্পর্কে ধারণা থাকায় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সহজেই মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসদর থানায় আলাদা দুটি মামলা করা হয়েছে।  পালিয়ে যাওয়া সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয় র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

 

মতামত দিন