ট্রাক উল্টে নবজাতকসহ ৪ সিএনজি যাত্রী নিহত

জসিম সিদ্দিকী: কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বালুখালী কাস্টমস ঘাট এলাকায় টেকনাফমুখী অতিরিক্ত বাঁশ বোঝাই ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নবজাতকসহ ৪ সিএনজি যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। ১৬ জুলাই সকাল ৯ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১৮ জন। বাকীদের অবস্থা সংকটাপন্ন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নিহতরা হচ্ছে বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর কায়েস (২৫), একই ক্যাম্পের তসরিন (২০), তার শিশু কন্যা মোশরফা আকতার (১ মাস), বালুখালী পানবাজার এলাকার রোজিনা আকতার (২৬)। গুরুতর আহত হলদিয়া পালং ইউনিয়নের হেলাল উদ্দিন (২১), টেকনাফ নাইট্যংপাড়া গ্রামের ফাতেমা বেগম (২৭), বালুখালী গ্রামের হামিদুর রহমান (১৬),একই গ্রামের আনোয়ারা বেগম (২৫)সহ ১০ জন যাত্রী রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া লাশগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরী ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জানান, নিহত ৪ জনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা শিবিরের জন্য বাঁশ নিয়ে কুতুপালং টিভি টাওয়ার ঢাল থেকে নামছিল একটি ট্রাক। অতিরিক্ত ভারের কারণে হঠাৎ ট্রাকটি বালুখালী কাস্টমস ঘাট এলাকায় উল্টে রাস্তার পাশে থাকা ৬টি ইজিবাইক ও সিএনজির ওপর পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দমকল বাহিনী স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের নিচ থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেয়া হলে ৪ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। লাশগুলো হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে একে তো প্রচুর জ্যাম,তার উপর সড়ক দূর্ঘটনা, উখিয়া-টেকনাফের মানুষের সুখ-শান্তি সব শেষ, এই জ্যাম আর দূর্ঘটনা থেকে কবে মুক্ত হব আমরা! অনেক মানুষের স্বপ্ন বিনষ্ট হচ্ছে, পরিবার হারাচ্ছে তাদের প্রিয় মুখ।
তাদেরমতে রোহিঙ্গা আসার পর থেকে ৯৫% মানুষের চাকরী, ব্যবসা, কনস্ট্রাকশনের কাজ ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নতি হলেও বিপরীতে পোহাতে হচ্ছে সকাল-বিকাল জ্যাম,আর রাস্তা দিন দিন অবনতির পথে, সবখানে গর্ত আর গর্ত, সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।
আর কম খরচে অতিরিক্ত লাভের আশায় গাড়িতে অতিরিক্ত মালামাল বহন করা নিত্যদিনের ঘটনা। এইসব গাড়ির মালিক আর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়না! এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান এলাকাবাসি।

মতামত দিন