টেকনাফে বাবুল মেম্বারসহ ১৩ জনকে সাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক:কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার ২ জন শীর্ষ ইয়াবা ডন সহ ১৩ জন ইয়াবা কারবারি ভ্রাম্যমান আদালত ৩ জুলাই মঙ্গলবার বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। দন্ডিতদের মধ্যে শীর্ষ ইয়াবা ডন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি স্থানীয় হ্নীলা ইউপি মেম্বার শামশুল আলম বাবুল এবং হ্নীলার শামশুল ইসলাম প্রকাশ আতর শামশুর ছেলে সাইফুল ইসলাম রয়েছে। তারা দুইজনকে দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রণয় চাকমার ভ্রাম্যমান আদালত ইয়াবা পাচার ও ইয়াবা মওজুদ করার দায়ে এসব কারবারিদের দন্ডাদেশ প্রদান করেন।এর আগে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক ও মেম্বার আকতার কামাল। বিজিবি সদস্যরা গত ৩০ জুন রাতে টেকনাফের হ্নীলা সীমান্ত থেকে দন্ডিত ইয়াবা ডনদ্বয়কে আটক করেছিলেন। পরে আটক করা হয় আরো ১১ জন ইয়াবা কারবারিকে। আটক ১১ ইয়াবা কারবারিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়।

টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল আছাদুদ জামান চৌধুরী সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যে জিরো টরালেন্স নীতি গ্রহন করেছে তা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিজিবি জওয়ানরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে টেকনাফ থানা সুত্রে জানা গেছে, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মেম্বার ও স্থানীয় ফুলের ডেইল গ্রামের বাসিন্দা শামশুল আলম বাবুলের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা সহ ৬ টি ইয়াবা পাচারের মামলা রয়েছে। এসব মামলা মাথায় নিয়েই ইয়াবা ডন বাবুল মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পুর্ব সিকদার পাড়ার বাসিন্দা শামসুল ইসলাম প্রকাশ আতর শামশুর পুত্র ইয়াবা ডন সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় ২ টি ইয়াবা মামলা রয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগেও আতর শামশুর পুত্র সাইফুলের ঘরে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে তার স্ত্রী সহ দুই নারীকে আটক করা হয়। টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রণয় চাকমার ভ্রাম্যমান আদালত ইয়াবা পাচার ও ইয়াবা মওজুদ করার দায়ে এসব কারবারিদের দন্ডাদেশ প্রদান করেন। ধৃতদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ পিচ করে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারী টেকনাফের হ্নীলা ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শামসুল আলম বাবুল সহ ১৩ জনকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের ৩ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রনয় চাকমার ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে ইউপি মেম্বার সহ ২ জনকে ২ বছর ও বাকি ১১ জনকে ৬ মাস করে সাজা প্রদান করে কারাগারে প্রেরনের জন্য টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ পিচ করে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। দন্ডিতরা যথাক্রমে হ্নীলা ফুলের ডেইলের মৃত আব্দুল গাফ্ফারের ছেলে শীর্ষ ইয়াবা ডন শামসুল আলম প্রকাশ বাবুল(৩৮), পূর্ব সিকদার পাড়ার শামসুল আলম প্রকাশ আতর শামশুর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২২), টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার রুহুল আমিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম মুন্না (১৮), আবু ছিদ্দিকের ছেলে ছৈয়দ করিম (২৫), নাইট্যং পাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল হক (৩৯), সাবরাং মুন্ডার ডেইলের নুরুল আজিম (১৯), সাবরাং লাফারঘোনার মৃত আব্দুল গণির ছেলে মো রফিক (৩০), হারিয়াখালীর মৃত মাহমুদের ছেলে আব্দুল করিম (৩৫), আলী আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হাসান (৩৮), মোঃ হোছনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৬), সাবরাং মাঝের পাড়ার সোলতানের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল (২৬), শরীয়তপুর কৃষ্ণনগরের সিরাজ শেখের ছেলে বাচ্ছু মিয়া (৩০), উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার নুর আহমদের ছেলে আব্দুর রশিদ (১৯)। এর আগে গত রোববার বিজিবি কর্তৃক আটক ১৫ মাদক কারবারীকে একই ভাবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে রাতে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর এবং টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য একরামুল হক র‌্যাবের সাথে এক বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন। পুলিশ জানায়, একরামের বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা ছিলনা। একরাম হত্যা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগে নিহত হন আকতার কামাল মেম্বার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*