টেকনাফের নাইট্যং পাড়া পয়েন্ট দিয়ে অবাধে ঢুকছে মাদক

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাড়া চোরাই পয়েন্ট এখন মাদকের ঘাটে পরিণত হয়েছে। নামে আদমঘাট বাস্তবে প্রবেশ করছে মাদকের বহর। মিয়ানমারের মাংগালার রোহিঙ্গা মোস্তাক বস্তা বস্তা ইয়াবা নাইট্যংপাড়ার চোরাকারবারী জনৈক ভূলুর সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিচ্ছে।
এদিকে দু’দেশের সীমান্ত পর্যায়ে আত্নীয়তার বন্ধনে মাদকের চালান টেকনাফের নাইট্যং পাড়ায় এসে মওজুদ হয়। পরে কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাপ্লাই হয়ে যাচ্ছে। ভূলু হচ্ছে মাদক সিন্ডিকেটের হোতা এবং তার নেতৃত্বে শফি ও ইব্রাহীমসহ ৬/৭ জন মাদক পাচারের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলেও এরা দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান উত্তর নাইট্যং পাড়া সীমান্ত নাফ নদীর জংগলে কৌশলে খালাস করে। মাঝে মধ্যে আদমঘাট বন্ধ হলে নাফনদীর জিরো পয়েন্ট বসে মাদকের হাট। মিয়ানমারের মাংগালার শীর্ষ মাদক কারবারী মোস্তাক জিরো পয়েন্টে হাত বদল হয়ে সাঁতরিয়ে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান এদেশে নিয়ে আসে বলে একাধিক সূত্র জানায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নাইট্যং পাড়ার ইয়াবা কারবারী ভূলু, শফি ও ইব্রাহীম মাদক জগতের শীর্ষস্থান দখল করলেও ওরা কেন আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে না, এ নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। ওরা ইয়াবা, মাদকের চালান এদেশে প্রবেশ করে স্থানীয় যুব সমাজকে এর প্রতি ধাবিত করছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় টেকনাফ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) গোপন সংবাদ পান মিয়ানমার মাংগালা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান মাদক কারবারী ভূলুর বাড়ীতে মওজুদ করে। পরে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে।
সূত্র জানায় মওজুদকৃত ইয়াবা পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার ছিল এবং উক্ত স্থান থেকে আড়াই লাখ ইয়াবার চালান ভূলুর পুত্র সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায় বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পূণরায় অভিযানে তন্ন ত্নন করে খোঁজ করলেও কোনো হদিস পায়নি।
সূত্র আরো জানায়, নাইট্যং পাড়া সীমান্তে দিয়ে মিয়ানমারের আদম পারাপারের জন্য একাধিক ঘাট রয়েছে। যে ঘাট নিলামে উঠে প্রতিমাসে ২ লাখ টাকার চেয়ে বেশী। আদম রোহিঙ্গা এদেশে পারাপার করলে ঘাট ডাক কারীকে দিতে হয় জনপ্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। উক্ত টাকা থেকে কিছু অংশের টাকা সংশ্লিষ্ঠদের হাতে চলে যায়। ফলে আদমঘাট ইয়াবার ঘাটে পরিণত হয়। নাইট্যং পাড়া পাহাড়ের পাশ্বে থাকায় এ সুযোগে ইয়াবার চালান পাহাড়ে লুকিয়ে রাখে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর অভিযান না থাকায় এখানে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। মাদক রোধে মাদক বিরোধী অভিযান জরুরী বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*