জেলা পূজা উদযাপন কমিটির ৩১০ টি মন্ডপের তালিকা প্রদান;তদন্তে পাওয়া যায়নি ১৪টি মন্ডপের কোন অস্তিত্ব

সিএনএ ডেক্স :: ২০১৮ সালের দূর্গাপূজায় কক্সবাজার সদর উপজেলায় চারটি অস্তিত্বহীন ঘটপূজার মন্ডপ দেখিয়ে আধাটন চাউল আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এনিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগের সত্যতাও মিলে। এরপর চলতি বছরও সেই অস্তিত্বহীন ৪ মন্ডপের পাশাপাশি আরো ১০ টি মন্ডপ যোগ করে ৩১০ টি মন্ডপের জন্য বরাদ্দ পেতে ৮ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি রনজিত দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা।

২০১৮ সালে অস্তিত্বহীন সহ ৩০০ মন্ডপের জন্য বরাদ্দ পেলেও এবার আরো ১০টি বেড়ে যাওয়ায় তদন্ত সাপেক্ষে সদর উপজেলা তালিকার ৬৮ মন্ডপ থেকে ১৪ মন্ডপকে অস্তিত্বহীন উল্লেখ করে তা বাদ দিয়েই ২৯৬ মন্ডপের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫৫ টন চাউল।

রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে জেলা পূজা উপযাপন পরিষদের মতবিনিময় সভায় ৩১০ মন্ডপের পরিবর্তে ২৯৬ মন্ডপের কথা উল্লেখ করা হয়।

অস্তিত্বহীন মন্ডপ আবিস্কার ও বাদ যাওয়ার বিষয়টি হিন্দু সম্প্রদায়সহ সচেতন মহলের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতবারে পূজা শেষে অস্তিত্বহীন মন্ডপের কথা উঠায় তা অস্বীকার করেছিলেন জেলা ও উপজেলা পূজা কমিটি। কিন্তু এবার সেই চারটিসহ আরো ১০টি মিলিয়ে ১৪টি মন্ডপ বাদ যাওয়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনা চলছে। জেনে-শুনে অস্তিত্বহীন মন্ডপের তালিকা উপস্থাপন করায় নেতৃবৃন্দের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ পূজারিরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের দূর্গাপূজার ব্যয় বহনের জন্য জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি-সম্পাদক স্বাক্ষরিত ৩১০ মন্ডপের কথা উল্লেখ করে একটি তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হয়। তালিকা মতো বরাদ্দও চলে আসে।

সূত্র মতে, সদরে গত বছরের চেয়ে ৩টি মন্ডপ বেড়ে ৬৮টি হওয়ায় অস্থিত্বহীন মন্ডপের বিষয়টি নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমালোচনা শুরু হয়। গত বছরের অভিযুক্ত চারটির বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আরো মন্ডপ বাড়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে পূজারিরা জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভায় বিষয়টি তুলে ধরেন। সেখানেই গতবারের অভিযোগ উঠা চারটিসহ আরো ১০টি মন্ডপের অস্তিত্ব না পাওয়ায় সদরের ৬৮টি মন্ডপ থেকে ১৪টি মন্ডপ বাদ দিয়ে ১৪১টি প্রতিমা ও ১৫৫টি ঘট পূজা মিলিয়ে ২৯৬ মন্ডপের জন্য ১৫৫ টন বরাদ্দ ঠিক রাখা হয়। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হিন্দু শরণার্থীদের একটি পূজার খরচও সংযুক্ত করা হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ বলেন, তালিকা আমরা নিজেরা করিনা। উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির করা তালিকা আমরা সমন্বয় করে জেলা প্রশাসনে উপস্থাপন করি। এবারও একই ভাবে সেটা হয়েছিল। জেলায় ১৪২ টি প্রতিমা ও ১৬৮টি ঘট পূজা মিলিয়ে ৩১০টি পূজার তালিকা দেয়া হয়েছিল। সে হিসাবেই ১৫৫ টন চাউল বরাদ্দ হয়। কিন্তু গতবারে সদরে চারটি পূজা মন্ডপের অস্তিত্ব নিয়ে অভিযোগ উঠায় এবার জেলা প্রশাসন নিজেরাই তদারকি করে সদরের ১৪টি মন্ডপ বাদ দিয়ে ১৪১টি প্রতিমা ও ১৫৫টি ঘট পূজার নির্ধারণ করে দেয়। সে হিসেবে বাকি ৭ টনকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হিন্দু শরণার্থীসহ উপজেলায় ব্যয়বহুল মন্ডপে কিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সূত্র মতে, ২০১৮ সালের দূর্গা পূজায় কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩৪ টি প্রতিমা ও ৩১ টি ঘট পূজা মন্ডপ মিলিয়ে ৬৫ টি মন্ডে জন্য ৩৫ মে. টন জিআর চালও বরাদ্ধ দেয় সরকার। কিন্তু সেখানে চারটি মন্ডপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এনিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। এবারের তালিকায় গতবারের অস্তিত্বহীন ৪টিসহ একটি প্রতিমা ও ২টি ঘট পূজা বাড়িয়ে ৩৫টি প্রতিমা ও ৩৩টি ঘট পূজা মন্ডপের বরাদ্দ চাওয়া হয়। জেলা প্রশাসন প্রথমে তালিকার সবগুলো মন্ডপের বরাদ্দ দিয়ে দিলেও পরে সদর উপজেলায় ৩৪ প্রতিমা ও ২০টি ঘট পূজার জন্য বরাদ্দ রাখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হিন্দুধর্মীয় এক নেতা বলেন, সদর উপজেলার ২০১৮ সালের তালিকায় অস্তিত্বহীন মন্ডপ ছিল। ২০১৯ সালে প্রথমে এসব ভূঁয়া মন্ডপের নাম তালিকায় থাকলেও পরে নাম বাদ দেয়ায় টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সুষ্পষ্ট হয়ে উঠে।

মতামত দিন