জমে উঠেছে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার: কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২৫ জুলাই। ভোট গ্রহণের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচারণা ততই বাড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। বর্তমানে কক্সবাজার শহরের ১২টি ওয়ার্ডে প্রচারণায় রয়েছেন মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের ৮৬ জন প্রার্থী। সব কিছু মিলে এখন জমে উঠেছে কক্সবাজার পৌরসভার নিবার্চন।
এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করছেন আওয়ামী লীগের মুজিবুর রহমান (নৌকা), বিএনপির রফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ), নাগরিক কমিটি সরওয়ার কামাল (নারিকেল গাছ), জাপার রুহুল আমিন সিকদার (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র জাহেদুর রহমান (হাত পাখা)। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মুজিবুর রহমান (নৌকা) ও বিএনপির রফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ) রয়েছেন প্রচারণার শীর্ষে। তাদের শহরে রয়েছে বিশালকর্মী বাহিনী।
দলীয় প্রার্থী নিজে ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীরা পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের পছন্দের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জামায়াত সমর্থিত বর্তমান মেয়র (বরখাস্ত) সরওয়ার কামালও দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারণায় রয়েছেন। তিনি শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারেন এমন গুজব শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএনপি জামায়াতের মধ্যে একটি প্রাথমিক গোপন বৈঠক হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। কয়েকদিন আগে জাপা প্রার্থী রুহুল আমিন সিকদার ছাত্রদল নেতা খুনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা জাহেদুর রহমান লিফলেটের মাধ্যমে প্রচারণা চালালেও তাকে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে দলীয় কর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত বলে জানা গেছে।
এছাড়া শহরের ১২টি ওয়ার্ডে ৬৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৭ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী বিরামহীন প্রচারণায় রয়েছেন। এতে একদিকে শহরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ, অন্যদিকে মাইকের গর্জনে অসুস্থ, শিশু, বৃদ্ধ ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে উঠেছে নাভিশ্বাস। প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের মাঝে চলছে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনা।
গত শুক্রবার শহরে দুই প্রার্থীদের সমর্থকদের তর্কাতর্কির জের ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) গণিত শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রদল নেতা তানভীর খুন হয়। এ খুনের বিচার দাবিতে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। এরই মাঝে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তানভীর খুনের বিচার দাবি করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তবে ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন এবং এই ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তি রোধে নির্বাচন অফিস সতর্ক রয়েছে এবং শহরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ২ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত টহল দিচ্ছে বলে জানান কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ জুলাই ভোট গ্রহণ। এরই মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা ও আচরণবিধি রক্ষার্থে শহরে ২ জন ম্যাজিস্ট্রেট টহল দিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, এবারে কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছেন ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন।
অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থী মাদকের টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। আবার অনেক জায়গায় প্রার্থীর নিকট আত্মীয়-স্বজন ইয়াবার টাকা থেকে ব্যাপকভাবে এলাকার ভোটারদের টাকা দিচ্ছে। একই সাথে প্রার্থীদের সাথে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকতেও দেখা যাচ্ছে। তাই নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন অনেক প্রার্থী।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, কালো টাকার প্রভাব বা কোথাও টাকা বিতরণ হচ্ছে এধরনের অভিযোগ এখনো আসেনি। তবে সামনের দিনে এসব বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো।

মতামত দিন