কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি!

মাহাবুবুর রহমান দৈনিক কক্সবাজার: কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থী মাদকের টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। আবার অনেক জায়গায় প্রার্থীর নিকট আত্মীয়-স্বজন ইয়াবার টাকা থেকে ব্যাপকভাবে এলাকার ভোটারদের টাকা দিচ্ছে। একই সাথে প্রার্থীদের সাথে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকতেও দেখা যাচ্ছে। তাই নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন অনেক প্রার্থী।

কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ভোটার নাছির উদ্দিন, রুবেল, মেজবাহ সহ অনেকে জানান, আমাদের ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী আছেন যিনি প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ি। তার নির্দিস্ট কোন ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও তার বিপুল টাকার উৎস নিয়ে সবাই জানে তিনি গোপনে ইয়াবা ব্যবসা করে থাকেন। তাই সেই প্রার্থী প্রায় ভোটারকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিচ্ছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। শহরের মোহাজের পাড়াতে সরকারি খাস জমিতে রয়েছে তার ভাইয়ের ৫ তলা বাড়ি।
এদিকে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী অভিযোগ করেন, আমাদের ওয়ার্ডে একজন সরকারি তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ি প্রার্থী আছেন। তাই এখানে কালো টাকার প্রভাব বেশি। বর্তমানে তিনি ব্যাপকভাবে টাকা-পয়সা ছড়াছড়ি করছে এবং তার সাথে বেশ কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ি প্রচারণায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। তাই আমরা আশংকা করছি এলাকার ভোট সুষ্ঠু হবে না। এখানে কালো টাকার ব্যাপক প্রভাব থাকবে।
এদিকে ১২নং ওয়ার্ডেও বেশ কয়েকজন ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এখানে মাদকের টাকার ছড়াছড়ি চলছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের সাথে প্রচারণায় নেমেছে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ি। ফলে এখানে নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়িদের দৌঁড়ঝাপ বেশি হচ্ছে। পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের ভোটার সঞ্জিত প্রকাশ সহ অনেকে জানান, আমাদের ওয়ার্ডে ২ জন মাদক ব্যবসায়ি প্রার্থী আছে। এলাকার সবাই জানে তারা মাদক ব্যবসায়ি। তারমধ্যে এক প্রার্থী ভোট চাইতে এসে অনেককে নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলছেন কোন সমস্যা থাকলে যোগাযোগ করুন। কারন তাদের টাকার অভাব নেই। কালো টাকার কাছে সব কিছু এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এদিকে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড, ৬নং ওয়ার্ড, ৭নং ওয়ার্ড সহ অনেক জায়গায় টাকার ব্যাপক ছড়াছড়ি হচ্ছে। এসব এলাকার বেশ কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে ভোটের প্রচারনা শুরু হওয়ার সাথে সাথে এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়িদের পদচারনাও বেড়ে গেছে। অনেকে টাকার প্রভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জিতানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে এবং অনেকে বলছে সামনে যত টাকাই লাগুক তারা খরচ করে বিজয়ী হবে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।
এব্যাপারে কক্সবাজার সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন জেলা সহ-সম্পাদক অধ্যাপক অজিত দাশ বলেন, নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কত টাকা ব্যয় করতে পারবে তার একটি রূপরেখা দেওয়া আছে। কিন্তু আমার মনে হয় না যে সেটা কেউ মানে। আসলে নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব সব সময় থাকে। সে জন্য অনেক যোগ্য প্রার্থীও টাকার কাছে পরাজিত হয়ে যায়। ফলে টাকা দিয়ে যে ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে যায় সে দূর্নীতি দূবৃত্তায়নে জড়িয়ে পড়ে। কারণ তিনি চিন্তা করেন আবারো নির্বাচন আসলে টাকা দিয়েই ভোট সংগ্রহ করবো। এই ধারাবাহিকতা খুবই দুঃখজনক।
এব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ভোট হচ্ছে নাগরিকদের জন্য একটি পবিত্র আমানত। এটা ভোটের মাধ্যমে আগামী দিনের জন্য তার নিজের জন্য জনপ্রতিনিধি ঠিক করবেন। কিন্তু সেখানে টাকার কাছে যদি নিজেকে বিক্রি করে দেয় তাহলে নিজেকে পন্য হিসেবে বিক্রি করে দেওয়ার সামিল। সবচেয়ে বড় কথা যে ভোটার টাকা দিয়ে ভোট দেবে তাকে কোন দিন সেই প্রার্থী ভবিষ্যতে মুল্যায়ন করবে না। মনে করবে আগামী বার আবার টাকা দিলেই সে ভোট দেবে। তাই কোনভাবে টাকা নিয়ে প্রভাবিত না হওয়ার আহবান জানান তিনি। একই সাথে নির্বাচনে যে কালো টাকা ছড়াচ্ছে সেটাও সঠিক নয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, কালো টাকার প্রভাব বা কোথাও টাকা বিতরণ হচ্ছে এধরনের অভিযোগ এখনো আসেনি। তবে সামনের দিনে এসব বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*