কক্সবাজারে নির্বাচনী প্রচারণা জমজমাট শুরু

জসিম সিদ্দিকী:  কক্সবাজারে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর বিকেল ২টার পর থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে জেলার চারটি আসনে ভোট যুদ্ধের প্রচারণা শুরু হয়। এতে মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ে উৎরে যাওয়া আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাপা, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের ২৮ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজেদের মতো করে ভোট চেয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্ধ নিশ্চিত হওয়ার পরই স্ব-স্ব জোট ও দলের প্রতীক নিয়ে প্রার্থীগণ নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামেন। ৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১০ ডিসেম্বর ছিল প্রতীক বরাদ্ধের পূর্ব নির্ধারিত সূচী। সব মিলিয়ে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথম দিন অতিবাহিত করেছে কক্সবাজারের চারটি আসন।
এদিকে প্রচারণার প্রথমে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে প্রচারণার বড় চমকটি দেখিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট তথা ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল। গতকাল বিকেলে কক্সবাজার শহর ছাড়াও মর্যাদাকর এই আসনের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টি ইউনিয়নে একযোগে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী তথা নৌকা সমর্থক চেয়ারম্যানের হাতে ধানের শীষ সমর্থক এক ছাত্রদল নেতা প্রহ্নত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রহ্নত ছাত্রদল নেতা আনচার অভিযোগ করেছেন, কোন কারণ ছাড়াই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান ভূট্টো বেদম প্রহার করে। এবং তার ভাই তাকে লক্ষ্য করে অবৈধ অস্ত্রের সাহায্যে গুলি বর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুরো দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থক নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে সদর-রামু আসনের নৌকা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল গতকাল বিকেলে প্রচারণায় রামুতে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রতিনিধি সভা সেরে নিয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের প্রতিদ্বন্ধী দু’জোটের দু’ হেভিওয়েট প্রার্থী মহাজোটের জাফর আলম ও ঐক্যফ্রন্টের হাসিনা আহমেদ গতকাল বিভিন্ন ইউনিয়নে গনসংযোগ করে কাটিয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলার চারটি আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ২য় দিনেই নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীকের ভোট যুদ্ধ দৃশ্যমান হয়েছে।

মতামত দিন