কক্সবাজারে ট্রলার ডুবিতে জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ ২০

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার: ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে ফিশিং ট্রলার ডুবিতে আব্দুস শুক্কুর (৪০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ১৬টি ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনো ২০ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। আহতবস্থায় ১৪ জেলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

১০ জুন ভোর থেকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে এসব ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস শুক্কুর কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের অছিউর রহমানের ছেলে।

কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহামদ বলেন, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীর বাবুল কোম্পানির একটি, ফখরুদ্দিনের একটি, কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া ফজল কোম্পানি ও শওকত ইসলামের একটি ট্রলার ডুবে গেছে। বাকি ১২টি ট্রলারের পরিচয় এখনো পাওয়া পায়নি।

তিনি আরও বলেন, ভোরের দিকে বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি হলে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলের হিমছড়ি, কলাতলী, শৈবাল, ডায়বেটিকস পয়েন্ট, বাকখালী চ্যানেল, মহেশখালী এবং কুতুবদিয়া চ্যানেলে ১৬টি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রলারের অধিকাংশ জেলে সাঁতরে কূলে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও এখনো ২০ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত সাগরে শতাধিক বোট অবস্থান করছে। এসব ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাদের কূলে ফিরে আসতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মোস্তাক আহামদ বলেন, নিখোঁজ জেলে ও বোটগুলোর বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আপন হোসেন মানিক জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় আনা এক জেলেকে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জেলের মরদেহ ময়না তদন্তের মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি ১৪ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটের বাঁকখালী মোহনায় একাধিক স্পীডবোট ডুবে গেছে। তবে যাত্রীদের ক্ষতি হয়নি। তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম সংবাদকে জানান, সব যাত্রীকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাই তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া এখনো দুর্যোগপূর্ণ থাকায় সব ধরণের বোট চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

মতামত দিন