আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস;জেনে রাখি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে

আজ ৮ মে। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এই দিনে বিশ্বব্যাপী থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি কিরা হয়। রোগীরা যাতে এই রোগ নিয়েও মানসম্মত জীবনযাপন করতে সক্ষম হয় সেজন্যেই মূলত এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।

এর মাধ্যমে বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ডাক্তারি পরামর্শ নেয়ার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হয় এবং থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে আমাদের চারপাশে যতগুলো ভ্রান্ত ধারণা বা কুসংস্কার আছে সেগুলো দূরীভূত করার চেষ্টা করা হয়।

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২০ এর শ্লোগান হচ্ছে The dawning of a new era for thalassaemia: Time for a global effort to make novel therapies accessible and affordable to patients”. যার অর্থ দাঁড়ায়, থ্যালাসেমিয়ায় নবযুগের সূচনাঃ রোগীদের কাছে নতুনতর চিকিৎসা সহজসাধ্য ও সুলভ করতে প্রয়োজন বৈশ্বিক উদ্যোগ।

এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা, বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া (রক্ত) পরীক্ষা করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে থ্যালাসেমিয়ামুক্ত রাখা।

#থ্যালাসেমিয়া_কি?

থ্যালাসেমিয়া একটি জীনগত রক্তরোগ যাতে হিমোগ্লোবিন এর ত্রুটির কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় যার ফলে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা কমে যায়।

#থ্যালাসেমিয়ার_কারণ_কি?

এটি একটি জীনগত রোগ যাতে হিমোগ্লোবিন তৈরি করার জীন রূপ পরিবর্তন করার কারণে ত্রুটিযুক্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় যার ফলে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায় এবং রক্তস্বল্পতা হয়।

#লক্ষনগুলো_কি_কি?

লক্ষনগুলো মূলত থ্যালাসেমিয়ার প্রকার ও তীব্রতার উপর নির্ভর করে। তবে সাধারনভাবে শারীরিক দূর্বলতা, বৃদ্ধি না হওয়া, ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, মুখের আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখা যায়।

#রোগ_নির্ণয়ঃ

রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস, কোরিয়নিক ভিলাই স্যাম্পলিং, এমনিওসেন্টেসিস ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় করা যায়।

#চিকিৎসা

মৃদু রোগের জন্য তেমন কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তবে তীব্র রোগের জন্য রক্ত পরিসঞ্চালন, ফলিক এসিড, আয়রন চিলেটিং ওষুধ যেমন ডেসফেরিওক্সামিন ইত্যাদি দেয়া হয়।

আয়রনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আয়রন জাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হয়। পেটে প্লীহা অনেক বড় হয়ে সমস্যা তৈরি করলে সেটা সার্জারি করে ফেলে দিতে হয়।

উন্নত চিকিৎসা হিসেবে জীন থেরাপি, বোন মেরো বা অস্থিমজ্জা ট্রান্সপ্লান্ট করা যায়।

থ্যালাসেমিয়া একটি অনিরাময়যোগ্য রোগ। তাই প্রতিরোধই হচ্ছে এই রোগ থেকে বাঁচার উতকৃষ্ট উপায়। আসুন আমরা সবাই সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করি, বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করি এবং পৃথিবীকে উপহার দিই থ্যালাসেমিয়া মুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

লেখক
ডা.শাহীন আব্দুর রহমান
আবাসিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা(আরএমও) এবং বিশেষায়িত জরুরী বিভাগের প্রধান, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*