আওয়ামী লীগ সরকারের আয়ু শেষ হয়ে যাচ্ছে

নিউজ ডেস্ক: রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লায় নেমে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আয়ু শেষ হয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ শীর্ষ নেতা সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের তো আয়ু শেষ হয়ে যাচ্ছে। আরও ২০ দিন আছে। এই ২০ দিন কাজে লাগান। যদি কাজ করার সুযোগ চান আমাদের বলেন, আমরা সাহায্য করব। কিছু একটি করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে এই সুযোগগুলো নেন।’গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজনীতি ও মানবাধিকার শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা মিলু চৌধুরীর সভাপাতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম, মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদের মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন ফরিদ, আফজাল হোসেন সেলিম, অ্যাডভোকেট ড. মো. শাহজাহান প্রমুখ।সরকারের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, আর কয়েক দিন পর তো সাধারণ মানুষ হয়ে যাবেন। আপনাদের যেন ৩১ ডিসেম্বর মোবারকবাদ দিতে পারি, সে সুযোগ দেন। কিছু ভালো কাজ করে না গেলে পরে আফসোস করবেন এই বলে যে, সুযোগ পেয়েও কিছু ভালো কাজটি করলাম না।নির্বাচনের সময় মাঠে থাকবেন জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি তো আছিই। কথা বলছি, জনমত গঠন করছি, সমর্থন সৃষ্টি করছি। এই ৮০ বছর বয়সে এর চেয়ে আর কী করার আছে?’বিটিআরসি ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশের সমালোচনা করেন ড. কামাল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপনারাও সতর্ক হোন। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিক হিসেবে নীরব হয়ে গেলে চলবে না। নিজের বাড়ি দখল করে নেওয়ার সময়ও চুপ থাকলে হবে না, প্রতিবাদ করতে হবে। ১৮ কোটি দেশের মালিক যদি এক হয়ে যাই, যদি মালিকানা ভোগ করার জন্য পাড়া-মহল্লায় এক হয়ে যাই তারা কিছুই করতে পারবে না।বিনাবিচারে হত্যাকা- মহামারি আকারে ধারণ করছে বলে অভিযোগ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে এসব হত্যাকা- বাড়ছে। দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত হওয়া জরুরি। দেশের মালিক জনগণ, আর জনগণের মালিকানা তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।’বিনাবিচারে হত্যাকা-ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা গুম-খুনের সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত এবং এ জন্য সরকারের জবাবদিহি করা উচিত।’গণমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে ড. কামাল বলেন, ‘বিনাবিচারে হত্যাকা- ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ২০১১ সালে ছিল ৬০, ২০১২ সালে ৫০, ২০১৩ সালে ৪০ জন, আর ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৩২১ জন হয়েছে। এটা মহামারি। এটা মহারোগ। এটি কীভাবে হয়েছে? কীভাবে সম্ভব? শাসনব্যবস্থার রুগ্ণ অবস্থার কারণে এটি হয়েছে। দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে এটি ঘটেছে।

মতামত দিন